Translate

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইসলাম চলে এসেছিলো স্বাভাবিকভাবে - সুষুপ্ত পাঠক

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইসলাম চলে এসেছিলো স্বাভাবিকভাবে - সুষুপ্ত পাঠক  Article updated, sojasapta 2, সোজাসাপ্টা ২

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আল বদররা যে 'নারায়ে তাকবির' ধ্বনি দিতো সেটা আর কেউ না জানুক হিন্দু বাড়িতে রেড পড়ার সময় হিন্দুরা ভালো করে জানত। পিনাকী তার হিন্দু বাপ-মার কেমন ছেলে জানি না। একটি সিনেমাতে রাজাকারদের মুখে নারায়ে তাকবির শুনে সে দাবী করছে 'এটা করে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, এরকম কিছু তখন ঘটেনি, উল্টো মুক্তিযোদ্ধারাও অপারেশনের সময় নারায়ে তাকবির দিতো'।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইসলাম চলে এসেছিলো স্বাভাবিকভাবে। কারণ পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিলো ইসলাম ও মুসলমান পরিচয়ে। 

সেটা ভেঙ্গে যাবার সম্ভবনা দেখা দেয়ার পরই পাকিস্তান রক্ষাকে ইসলাম রক্ষা বলছিলো জামাত ইসলামী ও মুসলিম লীগ। আল বদর বাহিনী গঠনই করা হয় ইসলামের বদর যুদ্ধের জিহাদীদের ৩১৩ জনের অনুকরণে ৩১৩ জন সদস্য নিয়ে। বদর বাহিনী গঠনের দিন নিজামী সেকথা সেদিন উল্লেখ করেছিলেন। দৈনিক সংগ্রাম ১৪ নভেম্বর ১৯৭১ সালে নিজামির বক্তব্য ছাপা হয় এভাবে, “আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে। পাকসেনাদের এ দেশের ইসলাম প্রিয় তরুন ছাত্র সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আল-বদর বাহিনী গঠন করেছে। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৩১৩। এই স্মৃতিকে অবলম্বন করে ৩১৩ জন যুবকের সমন্বয়ে এক একটি ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"  


যারা ইসলামের বদর যুদ্ধের মত করে দল গঠন করে তারা মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ আর হিন্দুদের উপর হামলার সময় 'আল্লাহ আকবর' শ্লোগান তো দিবেই। কুখ্যাত শর্ষীনা পীর মাওলানা আবু জাফর মোঃ সালেহ প্রকাশ্যে বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে যেসব পাকিস্তানী সেনা যুদ্ধ করতে আসবে তাদের জন্য বাঙালি হিন্দু নারীরা হচ্ছে মালে গণিমত! শর্ষীনা পীরের নিজস্ব মুজাহিদ বাহিনী ছিলো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা 'নারায়ে তাকবির আল্লা আকবর' দিতো জয় বাংলার এগিনিস্টে। 


গোলাম আযম পুরো যুদ্ধের সময় এই যুদ্ধকে বলেছিলো ইসলাম রক্ষার যুদ্ধ। তাদের শ্লোগান নারায়ে তাকবির আল্লা আকবর হবে না তো কি হবে? পিনাকী তার বাপের নামের জায়গায় কার নাম লেখে জানি না। জেনিটিক সমস্যা ছাড়া তো এতখানি বায়াস হয়ে কোন একটি পক্ষের জন্য কথা বলা প্রায় অসম্ভব! 

পিনাকী তার হিন্দু আত্মীয় স্বজনদের কথাই খুব ভালো করে জানার কথা যারা ৪৭, ৬৪, ৬৫, ৭১ সালে 'নারায়ে তাকবির আল্লা আকবর' শুনে কতখানি ভীত হতেন। অথচ লোকটা কী অবলীলায় শর্ষীনা পীর, মাওলানা মান্নান, মোহাম্মদউল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর, চরমোনাইয়ের পীর মরহুম সাইয়েদ মোহাম্মদ ইসহাক উত্তরাধিকারদের মত করে কথা বলছে!


ফলো করুন - সুষুপ্ত পাঠক

প্রতিবেদনটি প্রকাশে সোজাসাপ্টা২ কনো ভাবেই দায়ি নয়। সোজাসাপ্টা২ সম্পূর্ন নিরপেক্ষ একটি পোর্টাল।  

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url