Translate

আজকের বাংলাদেশ নিম্নবর্নের হিন্দুদের উত্তরসূরী | Today's Bangladesh is the successor of the Hindus of Lower Born

Today's Bangladesh is the successor of the Hindus of Lower Born

বাংলার ইতিহাস

লেখক নারায়ন দেবনাথঃ সভ্যতার বিবর্তনে সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে যখন শান্তি-শৃঙ্খলা মহানুভবতা সহমর্মিতা পারষ্পরিক  শ্রদ্ধাবোধ ফিরে এসেছে তখন বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে তেমন একটা পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয় না।কারণ সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে অথবা সম্প্রদায়গত ভাবে সেদেশের  সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে ধরনের অত্যাচার অবিচার ধর্মানুভুতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিরন্তর ঘটে চলেছে তাতে দেশটি সভ্যতার বিচারে একটি সভ্যদেশ বলা যায় না।


ঐতিহাসিকদের মতে:

অস্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশেমের ভারত বিজয়ের পর যখন এই উপমহাদেশে হিন্দু হত্যা মন্দির ভাঙা লুটপাট এবং ধর্মান্তকরন শুরু হয় তখন এই উপমহাদেশের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ নৃতাত্ত্বিক চরিত্রকে অগ্রহ্য করে কি করে পূর্ব-বাংলায় যা এখন বাংলাদেশের এক বিপুল মুসলিম অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছিল তা সমাজতাত্ত্বিকদের কাছে এক বিস্ময়।এই বিস্ময়ের পিছনেই লুকিয়ে রয়েছে যত রহস্য।


বস্তুত ভারতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তকরন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যর্থ হয়েছিল হিন্দু ধর্মের চরম রক্ষনশীলতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার নিচ্ছিদ্রকরনের কারনে।ঐতিহাসিকদের মতে ভারতের হিন্দুরা বিদেশি সরকারের দ্বারা শাসিত হতে রাজি থাকলেও ধর্ম পরিবর্তনে রাজি ছিলনা।বিদেশি মুসলমান আক্রমণকারীরা যখন ভারতে আসে তখন ভারতে হিন্দুর সংখ্যা ছিল ৬০কোটি।এই ৬০কোটি হিন্দু কাফেরের সামনেও তখন দুটো রাস্তা খোলা ছিল,হয় ইসলাম,নয় মৃত্যু।কিন্তু মুশকিল হল মুসলমানরা কোটি কোটি হিন্দুকে হত্যা করল বটে কিন্তু তাদের মুসলমান করতে পারেনি।তাই ৮০০ বছর রাজত্ব করে তারা দেশের মাত্র ১১% হিন্দুকে মুসলিম করতে সক্ষম হয়েছিল।


হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদের ভূমিকাও মনে রাখার মতো। কিন্তু ভারতের পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় এই বিধি কার্যকর হয়নি। ভারতের মূল অংশে ধর্মান্তকরনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছিলনা কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে হিন্দু ধর্ম সফল ভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল কিন্তু পূর্ব বাংলায় ইসলামের বিপুল প্রসারকে রোধ করার ক্ষেত্রে কেন ব্যর্থ হল এ প্রশ্নটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি ধাধার সৃষ্টি করেছে।


তখন যারা পূর্ব বাংলার সেই  অঞ্চলের অধিবাসী ছিল তারা মূলত ছিল নিম্নবর্নের হিন্দু।ডোম চামার নাপিত ধোপা মুচি মেথর ইত্যাদি ছোট জাতের মানুষ যাদেরকে অচ্যুত বলা হতো।নিম্নবর্গের হিন্দুরাই তখন ধর্মান্তরিত হয়েছিল বেশি ব্রাহ্মণ্যবাদী গোড়ামি ফলে।তখন প্রচলিত বিধান ছিল মুসলমানদের ছোঁয়াতে হিন্দুদের জাত চলে যেত।এবং এই ধর্মচ্যুতির শাস্তি পর জন্মেও ভোগ করতে হয়।এমন একটি ধারণা নিম্নবর্গের হিন্দুদের ধর্মান্তরিত হতে উৎসাহিত করেছিল।এছাড়া অনেক কারনের মধ্যে রাজাদের অত্যাচার অবিচার ছিল অন্যতম।এমনও ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় শুধু মাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণির হিন্দু নারীরা তাদের স্তনকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারত।বাকি নিম্ন শ্রেনীর নারীদেরকে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো।তবে যদি কোন নিম্নবর্গের হিন্দু নারী স্তন ঢেকে রাখতে চাইতো তাহলে তাকে মোটা দাগে রাজাকে স্তনকর দিতে হত।


ইতিহাস এক বহমান নদীর মতো। সভ্যতার বিবর্তন সংস্কৃতির বিকাশ দেশ-জাতি-গোষ্ঠী,ধর্ম সম্প্রদায়ের পথ চলা নিয়েই ইতিহাস।মানব সভ্যতার যাত্রাপথের প্রতিটি বাঁক মাইল ফলকের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ইতিহাস।স্রষ্টা অপরিসীম মমতায় প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে ও সম্পদে সজ্জিত করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।কিন্তু সেই সুযোগকে পূর্ব বাংলার মুসলিমরা কাজে লাগাতে পারেনি।কারণ তাদের চোখ ফোটার পরই শিক্ষা দেয়া হয় তোমরাই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জাতি বাকিরা সব তোমাদের শত্রু।ফলে তাদের মস্তিস্কে সেই ধারনারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে।মনস্তাত্তিকদের মতে এই ধারনাই বাংলাদেশের মুসলমানদের হিন্দু সম্পত্তি আত্মসাৎ ধর্মান্তকরন দেশত্যাগে বাধ্য করা বাড়িঘর দখল করা ইত্যাদি অমানবিক কাজের প্রতি তাড়িত করেছে।


বিশ্বপ্রকৃতিতে মনুষ্যসৃষ্টি এক মহাবিস্ময়।এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু সৃষ্টি তার একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে।কিন্তু ইসলাম সেটা স্বীকার করেনা।সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রানীকূলের মতোই মানবকূল ও ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে লাখ লাখ পরিবর্তন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি আজকের মনুষ্যসৌষ্ঠব।কিন্তু ইসলামের ভিন্ন মত।এরা পোষাকে ধর্ম দেখে খাবারে ধর্ম দেখে সংস্কৃতির মধ্যে ধর্ম দেখে।ধর্মের পোশাক পরে ঘুষ খায় মিথ্যাকথা বলে প্রতারণা করে ঠক জোচ্চুরি এমন কোন গর্হিত কাজ নেই যা তারা করে না।তাদের ধারণা যে তরবারি  ইসলাম প্রচারের হাতিয়ার সে তরবারি দিয়েই তারা বিশ্বজয় করবে।এমন একটি ধর্মের কারনেই এই অঞ্চলের মানুষের মানসিক কোন পরিবর্তন আসেনি।


কে জানে নিম্নবর্গের হিন্দুদের উত্তরসূরী আজকের বাংলাদেশ কিনা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url